চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজু্দ আবিষ্কারের দাবি করেছে জ্বালানি খাতের বৃহৎ কোম্পানি বিপি। এ ঘোষণা এমন সময়ে এল যখন কোম্পানিটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আবার জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। খবর বিবিসি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানিটি সোমবার জানিয়েছে, ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলের গভীর সমুদ্র এলাকায় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস খননের একটি স্থানে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধানটি কোম্পানির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিপির শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা গর্ডন বিরেল জানিয়েছেন, এটি গত ২৫ বছরে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান। একই সঙ্গে ওই এলাকায় একটি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বিপি।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা কমানোর কথা জানায় বিপি। এর বদলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে প্রতি বছর অতিরিক্ত কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দেয় তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বিপির তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে সান্তোস বেসিনের বুমেরাং ব্লকে প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে। কাস্পিয়ান সাগরে ১৯৯৯ সালে শাহ দেনিজ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর এটিই বিপির সবচেয়ে বড় উদ্ঘাটন। চলতি বছরে এটি বিপির একাধিক জ্বালানি মজুদ আবিষ্কারের মধ্যে একটি। এর আগে কোম্পানিটি মেক্সিকো উপসাগরেও মজুদের সন্ধান পেয়েছিল। বিপির উৎপাদন ও পরিচালনা বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট গর্ডন বিরেল বলেন, ‘এটি আমাদের অনুসন্ধান দলের জন্য চলতি বছরের আরেকটি বড় সাফল্য।’
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, গত পাঁচ বছর ‘নিট জিরো’ জ্বালানি প্রস্তুতকারক হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও বিপিকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় কোম্পানিটি ৫৭০ কোটি ডলার (৪২৯ কোটি পাউন্ড) বার্ষিক ক্ষতির মুখে পড়ে। দুই বছর পর ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার একটি জ্বালানি কোম্পানিতে নিজেদের শেয়ার প্রত্যাহার করে বিপি। এতে কোম্পানিটির ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। তবে এসব ধাক্কার পরও ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিপির আয় হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে হয়েছে ২৪০ কোটি ডলার। তবে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১৮০ কোটি ডলার।